• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন |

গুরুতর অসুস্থ সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দসাহিত্য ডেস্ক: গুরুতর অসুস্থ দেশের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছে। লেখকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হকসহ তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। তিনি ফুসফুসের জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত।

এ বিষয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত জানান, লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে কবি চিকিৎসা নেবেন।

তিনি আরও জানান, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও কবির পরিবারের পক্ষ থেকে সৈয়দ শামসুল হকের রোগ মুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্পসহ সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে সাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের প্রথম সন্তান তিনি। পিতা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এ লেখক ব্যক্তিজীবনে প্রথিতযশা লেখক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের স্বামী।

সৈয়দ শামসুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায়। সেখানে ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়।

শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলে চিকিৎসা বিদ্যা পড়বেন। কিন্তু বাবার সে ইচ্ছা এড়াতে ১৯৫১ সালে বম্বে (বর্তমান মুম্বাই) পালিয়ে যান তিনি। সেখানে বছরখানেকের বেশি একটি সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৫২ সালে দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়।

এ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) ছাড়াও একুশে পদক (১৯৮৪), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), অলক্ত স্বর্ণপদক (১৯৮২), আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ (১৯৮৩) অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ